বাংলা আইনি সহায়িকা 17 min read

জমি কেনার আগে করণীয়: সিএস, এসএ, আরএস কাগজ যাচাই

জমি কেনার আগে করণীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই (সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপ)

সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি জমি কিনলেন। রেজিস্ট্রিও হলো। তারপর একদিন জানতে পারলেন, বিক্রেতা আসল মালিক ছিলেন না, অথবা একই জমি আরেকজনকেও বিক্রি করা হয়েছে। তখন কী হবে?

এই ভুল অনেকেই করেন, কারণ জমি কেনার আগে কী কী দেখতে হয় তা জানা থাকে না। এই লেখায় আপনি জানবেন সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান কীভাবে মেলাবেন, কোন কাগজ কেন দরকার, এবং সাম্প্রতিক আইনে কী বদলেছে।

কেন জমি কেনার আগে যাচাই এত জরুরি?

বাংলাদেশে জমি কেনাবেচায় প্রতারণার ঝুঁকি আছে। সবচেয়ে সাধারণ ঝুঁকিগুলো হলো একই জমি একাধিকবার বিক্রি, আর সরকারি বা খাস জমিকে ব্যক্তিগত জমি বলে বিক্রি।

যাচাই করলে এসব ঝুঁকি অনেক কমে। আর যাচাই শুরু করতে হবে টাকা বা বায়না দেওয়ার আগে, পরে নয়।

জমি কেনাবেচায় কোন আইন কী বলে?

আইনসংক্ষেপে কী নিয়ন্ত্রণ করে
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ (ধারা ৫৪, ৫৪ক)বিক্রয়ের সংজ্ঞা, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, বায়না চুক্তি
রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮দলিল রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (ধারা ৯৬)অগ্রক্রয় (শরিকের অগ্রাধিকার)
ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩কৃষিজমির মালিকানার ঊর্ধ্বসীমা
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩জালিয়াতি, অবৈধ দখলের মতো ভূমি অপরাধ
ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬জমির জোন ও কৃষিজমি রক্ষা

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৪ ধারা অনুযায়ী, দাম পরিশোধ বা পরিশোধের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তরই বিক্রয়। স্থাবর সম্পত্তির এই হস্তান্তর কেবল রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমেই হতে পারে। অর্থাৎ শুধু টাকা দিয়ে বা সাদা কাগজে লিখে মালিক হওয়া যায় না।

সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপ কী?

জরিপ (Survey) হলো সরকারের মাঠপর্যায়ে জমির পরিমাপ ও মালিকানা রেকর্ড করার কাজ। দেশে এ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জরিপ হয়েছে সিএস, আরএস, এসএ এবং বিএস বা সিটি জরিপ।

খতিয়ান (Khatian) হলো জমির মালিকানার সরকারি রেকর্ড। জরিপের সময় মালিকানার বিবরণ মৌজাভিত্তিক করে প্রস্তুত করা হয়। খতিয়ান হলো মূল রেকর্ড, আর পর্চা (Porcha) সেই রেকর্ডের ব্যবহারযোগ্য কপি।

জরিপসংক্ষেপে
সিএস (CS)সবচেয়ে পুরোনো জরিপ। মালিকানার শুরু বোঝার জন্য এটি দেখা হয়।
এসএ (SA)রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ জরিপ, সিএস-এর পরবর্তী রেকর্ড।
আরএস (RS)সংশোধিত জরিপ, আগের রেকর্ড হালনাগাদ করে।
বিএস / সিটি জরিপসর্বশেষ জরিপ। ঢাকা অঞ্চলে এটি মহানগর বা সিটি জরিপ নামে পরিচিত।

গুরুত্বপূর্ণ কথা: একটি জরিপ দেখলেই হবে না। সিএস থেকে সর্বশেষ জরিপ পর্যন্ত মালিকানার ধারাবাহিকতা (Chain of Title) মিলিয়ে দেখতে হয়। অর্থাৎ জমি কার নামে ছিল, কীভাবে হাত বদলাল, আর এখন বিক্রেতার নামে কীভাবে এলো।

ধাপে ধাপে জমি যাচাইয়ের নিয়ম

ধাপ ১: বিক্রেতার পরিচয় ও মালিকানা নিশ্চিত করুন।
জমি কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিক্রেতা প্রকৃত মালিক কি না। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে দলিল ও খতিয়ানের নাম মিলিয়ে নিন।

ধাপ ২: বিক্রেতার কাছ থেকে সব কাগজের কপি নিন।
সিএস খতিয়ান, আরএস খতিয়ান, বিএস বা ঢাকা সিটি জরিপের খতিয়ান, সর্বশেষ পর্যন্ত সব বেচাকেনার বায়া দলিল, নামজারি খতিয়ান এবং হাল সনের খাজনার দাখিলা চেয়ে নিন।

ধাপ ৩: খতিয়ান মিলিয়ে দেখুন।
প্রতিটি খতিয়ানে মৌজা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মালিকের নাম মেলাতে হবে। অনলাইনে ই-পর্চার মাধ্যমে ঘরে বসেই খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। তবে অনলাইন কপি দেখার পরও ভূমি অফিস বা আইনজীবীর মাধ্যমে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

ধাপ ৪: নামজারি যাচাই করুন।
নামজারি (Mutation) হলো সরকারি ভূমি রেকর্ডে মালিকের নাম পরিবর্তন বা অন্তর্ভুক্তি। শুধু দলিল দেখলে হবে না। বিক্রেতার নামে নামজারি আছে কি না, তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। নামজারি খতিয়ান dlrms.land.gov.bd সাইটে অনুসন্ধান করা যায়।

ধাপ ৫: খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধের প্রমাণ দেখুন।
দাখিলা (Dakhila) হলো খাজনা পরিশোধের রশিদ। সর্বশেষ খাজনা পরিশোধ হয়েছে কি না এবং অনলাইন ভূমি অফিসের রশিদ মিলছে কি না, দেখুন। ভূমি উন্নয়ন কর এখন land.gov.bd পোর্টালে অনলাইনে দেওয়া যায়।

ধাপ ৬: সরকারি, খাস বা বনের জমি কি না দেখুন।
খাস জমি বা বন বিভাগের জমি আছে কি না, ভূমি অফিসের রেকর্ডে তা যাচাই করুন। আইনজীবীর মাধ্যমে জমিটি অর্পিত বা অধিগ্রহণকৃত কি না, তাও দেখিয়ে নিন।

ধাপ ৭: জমির নকশা ও দখল সরেজমিনে মেলান।
প্রয়োজনে সার্ভেয়ার বা ভূমি সহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে জমির নকশার সঙ্গে মিল দেখুন। জমিতে এখন কে দখলে আছেন, আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিন।

ধাপ ৮: শরিক ও ওয়ারিশদের অবস্থান জানুন।
জমিতে একাধিক শরিক বা ওয়ারিশ থাকলে সবার সম্মতি আছে কি না দেখুন। অগ্রক্রয় মামলার ঝুঁকি এড়াতে সব অংশীদারকে আগে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ধাপ ৯: প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেখুন।
জমিতে বাড়ি বা স্থাপনা করতে চাইলে রাজউক বা সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন লাগবে কি না, আগেই জেনে নিন।

ধাপ ১০: আইনজীবীর মাধ্যমে সামগ্রিক যাচাই করান।
জমি কেনার আগে একজন অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

  • সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস/সিটি জরিপের খতিয়ান
  • বিক্রেতা পর্যন্ত আসা সব আগের দলিল (বায়া দলিল)
  • নামজারি খতিয়ান ও নামজারির আদেশ
  • হালনাগাদ খাজনার দাখিলা
  • বিক্রেতার ও আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র
  • ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি হলে ওয়ারিশ সনদ ও বণ্টননামা
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে বিক্রি হলে সেই ক্ষমতাপত্রের মূল কপি
  • জমির নকশা বা মৌজা ম্যাপ

বায়না চুক্তি নিয়ে সতর্কতা

অনেকে ঝুঁকি না জেনে মৌখিকভাবে বা সাদা কাগজে বায়না করেন। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৪ক ধারা বলছে, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে হতে হবে, ক্রেতা দখল পেয়ে থাকলেও। চুক্তিতে বিক্রয় দলিল সম্পাদনের সময় উল্লেখ থাকতে হয়, না থাকলে ছয় মাস ধরা হয়।

তাই বায়না দেওয়ার আগে আইনজীবীর মাধ্যমে চুক্তির খসড়া করান।

অগ্রক্রয় কী, আর কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অগ্রক্রয় (Pre-emption) হলো শরিকের অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়াধিকার। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারা এটি নিয়ন্ত্রণ করে। ধারাটি ২০০৬ সালের সংশোধনীতে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। কোনো রায়তের জোতের অংশ বা শেয়ার শরিক নন এমন ব্যক্তির কাছে বিক্রি হলে অগ্রক্রয়ের প্রশ্ন আসে।

আদালত কিছু ক্ষেত্রে বলেছেন, আচরণের মাধ্যমে অগ্রক্রয়ের অধিকার ত্যাগ করা হয়েছে প্রমাণিত হলে মামলা খারিজ হতে পারে। তবু নিশ্চিন্ত হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো শরিকদের লিখিত সম্মতি বা নোটিশের প্রমাণ রাখা। এই মামলার সময়সীমা ও শর্ত সম্পর্কে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তন যা আপনার জানা দরকার

১. ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৭ নং আইন): এই আইনে ব্যক্তির কৃষিজমির ঊর্ধ্বসীমা ৬০ প্রমিত বিঘা। এই সীমা লঙ্ঘন করে ক্রয়সূত্রে নতুন কৃষিজমি অর্জন করলে আইনে পরিণতির বিধান আছে। বড় অঙ্কের কৃষিজমি কিনলে এই সীমা আগেই হিসাব করুন।

২. ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬: সরকার এটি ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করেছে। ডিজিটাল ম্যাপের মাধ্যমে ভূমিকে কৃষি, বাণিজ্যিক, শিল্প, বন ও জলাশয় ইত্যাদি জোনে ভাগ করার কথা আছে। বছরে দুই বা তার বেশি ফসল হয় এমন জমিকে বিশেষ কৃষি অঞ্চল ঘোষণা করে সুরক্ষিত রাখা হবে, এবং সেসব জমিতে শিল্প বা আবাসন প্রকল্প করা যাবে না। তাই বাড়ি বা প্রকল্পের উদ্দেশ্যে জমি কিনলে জমির শ্রেণি ও জোন আগে যাচাই করুন।

৩. ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩: এই আইনে অবৈধ দখল, জালিয়াতির মতো ভূমি-সংক্রান্ত অপরাধ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং শাস্তির বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে।

৪. অনলাইন সেবা: খতিয়ান অনুসন্ধান, নামজারি খতিয়ান দেখা ও খাজনা পরিশোধ এখন অনলাইনে করা যায়। কোনো সমস্যা হলে সরকারি ভূমি হেল্পলাইন ১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

কেনার পর কী করবেন?

দলিল রেজিস্ট্রি হলেই কাজ শেষ নয়। দ্রুত নিজের নামে নামজারি করুন এবং নিয়মিত খাজনা দিন। সরকারি রেকর্ডে আপনার নাম না থাকলে বিক্রি, ব্যাংক ঋণ বা বাড়ি নির্মাণে সমস্যা হতে পারে।

রেজিস্ট্রির খরচে সাধারণত থাকে রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, স্থানীয় সরকার কর এবং উৎসে কর। উৎসে কর আদায় হয় আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১২৫ ধারা অনুযায়ী, এবং সরকার এ বিষয়ে উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ জারি করেছে। হার প্রতি বছর বা এলাকাভেদে বদলাতে পারে, তাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে হালনাগাদ হিসাব নিন।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় সাধারণ ভুল

  1. শুধু দলিল দেখে জমি কেনা। খতিয়ান ও নামজারি না মেলালে ঝুঁকি থেকে যায়।
  2. একটি জরিপের খতিয়ান দেখে থেমে যাওয়া। মালিকানার ধারাবাহিকতা পুরোটা মেলাতে হয়।
  3. বিক্রেতার দেওয়া ফটোকপির ওপর নির্ভর করা। ভূমি অফিস বা অনলাইন রেকর্ডের সঙ্গে মেলান।
  4. শরিক বা ওয়ারিশদের অবস্থান না জানা। পরে অগ্রক্রয় বা অংশের মামলা হতে পারে।
  5. সাদা কাগজে বায়না করা। আইনে চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হয়।
  6. জমির শ্রেণি ও জোন না দেখা। কৃষিজমিতে বাড়ি বা প্রকল্প করতে গেলে সমস্যা হতে পারে।
  7. কেনার পর নামজারি না করা।
  8. সব কাগজ একা যাচাই করতে যাওয়া। জটিল ক্ষেত্রে আইনজীবী ছাড়া ঝুঁকি বাড়ে।

একটি উদাহরণ (কাল্পনিক)

রহিম সাহেব ১০ শতক জমি কিনতে চান। বিক্রেতা একটি দলিল ও খাজনার রসিদ দেখালেন। রহিম সাহেব আইনজীবীর কাছে গেলেন। আইনজীবী সিএস থেকে সর্বশেষ জরিপ পর্যন্ত খতিয়ান মেলালেন, আগের দলিলের ধারাবাহিকতা দেখলেন এবং নামজারি যাচাই করলেন।

দেখা গেল, বিক্রেতার পরিবারের আরও দুজন ওয়ারিশ আছেন, যাঁদের সম্মতি নেই। রহিম সাহেব তখন কেনা স্থগিত করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি মিটমাট করালেন। এতে তিনি পরে মামলার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেলেন।

কোথায় যাবেন?

  • ইউনিয়ন ভূমি অফিস / উপজেলা ভূমি অফিস (এসি ল্যান্ড): খতিয়ান, নামজারি ও খাজনার তথ্য যাচাই
  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: দলিল রেজিস্ট্রেশন ও আগের দলিলের রেকর্ড
  • ভূমি আইনজীবী: কাগজপত্রের সামগ্রিক আইনি যাচাই
  • দেওয়ানি আদালত: মালিকানা বা দখল নিয়ে বিরোধ হলে
  • ভূমি আপীল বোর্ড: ভূমি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আপিল শোনে এমন একটি আধা-বিচারিক সরকারি সংস্থা

খরচ ও সময় কত লাগে?

খরচ নির্ভর করে জমির মূল্য, অবস্থান ও প্রযোজ্য কর-ফিয়ের হারের ওপর। এই হার পরিবর্তনশীল, তাই এখানে নির্দিষ্ট শতকরা হার উল্লেখ করা হলো না। আইনজীবীর ফি ও যাচাইয়ের সময় প্রতিটি জমির জটিলতার ওপর নির্ভর করে। কেউ নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

মূল কথা

  • বিক্রেতা প্রকৃত মালিক কি না, সবার আগে দেখুন।
  • সিএস, এসএ, আরএস ও সর্বশেষ জরিপ পর্যন্ত মালিকানার ধারাবাহিকতা মেলান।
  • নামজারি ও খাজনার দাখিলা যাচাই করুন।
  • বায়না চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত করুন।
  • শরিক, খাস জমি, কৃষিজমির সীমা ও জোন আগেই দেখুন।
  • কেনার পর দ্রুত নামজারি করুন।

দাবিত্যাগ: এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, এটি আইনি পরামর্শ নয়। আইন বদলায় এবং প্রতিটি মামলা আলাদা। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যোগ্য অ্যাডভোকেটের পরামর্শ নিন।

Frequently Asked Questions (FAQ)

Find clear, expert answers to the most common questions regarding this article below.

বিক্রেতা প্রকৃত মালিক কি না, সবার আগে তা যাচাই করুন। এজন্য সিএস, এসএ, আরএস ও সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান, আগের সব হস্তান্তর দলিল, বিক্রেতার নামে নামজারি এবং হালনাগাদ খাজনার দাখিলা মিলিয়ে দেখুন। শুধু একটি দলিল দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রয়োজনে আইনজীবীর সাহায্য নিন।

এগুলো বিভিন্ন সময়ে হওয়া ভূমি জরিপের খতিয়ান। সিএস সবচেয়ে পুরোনো, এরপর এসএ ও আরএস এবং সর্বশেষ বিএস বা ঢাকা অঞ্চলে সিটি জরিপ। জমির মালিকানার ধারাবাহিকতা বুঝতে সব জরিপের রেকর্ড পরপর মিলিয়ে দেখতে হয়। কোনো ধাপে নাম বা দাগ না মিললে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

বিক্রেতার নামে নামজারি না থাকলে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ সরকারি রেকর্ডে তিনি মালিক হিসেবে নাও থাকতে পারেন। দলিল দেখেই কিনবেন না। নামজারি খতিয়ান ও হালনাগাদ খাজনার রসিদ মিলিয়ে দেখুন এবং কেনার পর দ্রুত নিজের নামে নামজারি করুন। সন্দেহ থাকলে আগে আইনজীবীকে দেখান।

জরিপের খতিয়ান ই-পর্চা পোর্টালে অনুসন্ধান করা যায়। নামজারি খতিয়ান dlrms.land.gov.bd সাইটে দেখা যায় এবং ভূমি উন্নয়ন কর land.gov.bd থেকে দেওয়া যায়। অনলাইন কপি দেখার পরও ভূমি অফিস বা আইনজীবীর মাধ্যমে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। ভূমি হেল্পলাইন ১৬১২২ নম্বরেও সহায়তা পেতে পারেন।

টিপি অ্যাক্টের ৫৪ক ধারা অনুযায়ী জমি বিক্রির চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হয়, ক্রেতা দখল নিলেও। চুক্তিতে সাফ কবলা সম্পাদনের সময় উল্লেখ থাকতে হয়; না থাকলে ছয় মাস ধরা হয়। বায়না দেওয়ার আগে অবশ্যই আইনজীবীর পরামর্শ নিন। মৌখিক বা সাদা কাগজের বায়না ঝুঁকিপূর্ণ।

অগ্রক্রয় হলো শরিকের অগ্রাধিকার নিয়ে বিক্রীত জমি নিজে নেওয়ার আইনি অধিকার। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারায় এর বিধান আছে। জমিতে শরিক থাকলে পরে মামলা এড়াতে আগে নোটিশ বা লিখিত সম্মতি নিন। সময়সীমা সম্পর্কে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। প্রতিটি মামলার তথ্য আলাদা, তাই নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কৃষিজমির মালিকানার ঊর্ধ্বসীমা ৬০ প্রমিত বিঘা। ক্রয়ের মাধ্যমে এর বেশি কৃষিজমি অর্জন আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এছাড়া ২০২৬ সালের অধ্যাদেশে কৃষিজমি রক্ষায় কড়াকড়ি এসেছে, তাই জমির শ্রেণি ও জোন যাচাই করুন। বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

সন্দেহ হলে টাকা দেওয়া বা চুক্তি করা বন্ধ রাখুন। ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড আইনজীবীর মাধ্যমে মিলিয়ে নিন। প্রতারণা প্রমাণিত হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রতিকার থাকতে পারে। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এ জালিয়াতি ও অবৈধ দখলের মতো অপরাধের বিধান আছে।

Recommended Legal Reading

Related Legal Insights & Case Guides

Explore more statutory legal analysis, procedure guides, and court insights by Advocate Ataur Rahman.

Bail in Bangladesh: CrPC Provisions & Court Discretion Criminal Law & Bail

Bail in Bangladesh: CrPC Provisions & Court Discretion

Understand bail in Bangladesh: bailable vs non-bailable offences, Sections 496–498 CrPC, antici...

চেক ডিজঅনার মামলা (১৩৮ ধারা এন আই অ্যাক্ট): লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা দায়েরের নিয়মাবলী বাংলা আইনি সহায়িকা

চেক ডিজঅনার মামলা (১৩৮ ধারা এন আই অ্যাক্ট): লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা দায়েরের নিয়মাবলী

চেক বাউন্স করলে এন আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করার সঠিক সময়সীমা, আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোট...

জামিনের দরখাস্ত ও আদালতে জামিন মঞ্জুরের আইনি নিয়ম: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬, ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারা বাংলা আইনি সহায়িকা

জামিনের দরখাস্ত ও আদালতে জামিন মঞ্জুরের আইনি নিয়ম: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬, ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারা

জামিনের আবেদন কীভাবে করবেন? ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮ ধারায় জামিনযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আ...

পারিবারিক আদালতে দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত আইনি অধিকার বাংলা আইনি সহায়িকা

পারিবারিক আদালতে দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত আইনি অধিকার

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ ও ২০২৩ সংশোধনী অনুযায়ী দেনমোহর আদায়, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ এব...